ছেলের মৃত্যুর ১৮ দিন পর আদালতে বাবার মামলার আবেদন

 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ছাত্রদল নেতা অনিক হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা আদালতে মামলার আবেদন করেছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নিহত অনিক হাসানের বাবা আমির হোসেন নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলার আবেদন করেন। মামলার আবেদনে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৪ জন নেতা–কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।


নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন মামলার আবেদনপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর ছাত্রদল নেতা অনিক হাসান মারা যান। এ ঘটনায় নিহত অনিক হাসানের পরিবার থানায় মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। ঘটনার ১৮ দিন পর আজ মঙ্গলবার অনিকের বাবা আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত তিন কার্যদিবসের মধ্যে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ঘটনার প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। পরে এ ব্যাপারে আদালত আদেশ দেবেন।


আবেদনে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন ভুলতা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিকদার, ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শাহ আলম, যুবলীগ নেতা মো. বাবু, রাসেল মিয়া, শাহিন মিয়া, জাহাঙ্গীর মোল্লা, ছাত্রলীগ নেতা মো. ওবায়দুর, মো. আলাউদ্দিন, মো. মিজান, রাজন, মো. রানা, রিফাত ও ইমরান।


মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, অনিক হাসান কাঞ্চন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় অনিক ভুলতা এলাকায় ছাত্রদলের মশাল মিছিল শেষ করে ইজিবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি মুন্সিরপাম্প এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র ও রড নিয়ে অনিকের ওপর হামলা চালান। তাঁকে মারধর করে একটি চলন্ত ট্রাকের নিচে ফেলে দেওয়া হয়।  পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।


মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, অনিকের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নেননি।


থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলা নেওয়া হয়নি, এটা মিথ্যা অভিযোগ। অনিকের পরিবারের কেউ মামলা করতে থানায় আসেননি। পরবর্তীতে আমরা একাধিকবার অনিকের বাড়িতে গিয়ে মামলার অভিযোগ দিতে বলেছি। কিন্তু তারা তখন মামলা করতে চায়নি।' 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন